বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সাতছড়ি বনে গাছ চুরি,সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু বিভাগীয় পর্যায়ে চুনারুঘাট ডিসিপি হাই স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের চমক সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থে‌কে সেগুনগাছ চু‌রি DEMON 71 এর আবারো চমক, বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অর্জন স্বর্ণপদক জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছে বাহুবলের “DEMON 71” টিম অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি, চালক সংকটে সচল কর্মকর্তার গাড়ি বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে একটি শাটার বিকল, দেড় মাস গ্যারেজবন্দি বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স পুটিজুরী ইউপি সদস্য জসিম মেম্বার গ্রেপ্তার পুরোনো ভিডিও কেন্দ্র করে মাজার ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, পীরকে কুপিয়ে হত্যা

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে চান না পুলিশ সদস্যের পিতা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : পুলিশ সদস্যের বৃদ্ধ পিতা আকল মিয়া (৭০) বৃদ্ধাশ্রমে যেতে চান। হবিগঞ্জ শহরতলীর পৈল (ঘরের পাড়) গ্রামের বাসিন্দা মৃত আশ্বব আলীর ছেলে আকল মিয়া হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে চান না জীবননাশের ভয়ে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল বেডে শোয়ে শোয়ে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান , তার ছেলে রজব আলী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে কর্মরত। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানায় আছেন রজব আলী। আর তার মেয়ে আছিয়া খাতুন (৩৫) মানসিক ভারসাম্যহীন।

একের পর এক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভাঙ্গা পায়ের চিকিৎসা নিতে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় গত ১৪ মার্চ ভর্তি হন হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে । ২১ মার্চ হাসপাতালের ডাক্তার তাকে এক্সরে ও অপারেশন করানোর পরামর্শ দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট হাসপাতালে রেফার্ড করেন । তবে বৃদ্ধ পিতার পুলিশ সদস্য ছেলে রজব আলী ও মেয়ে কেউ তার দায়িত্ব না নেয়ায় তিনি হবিগঞ্জ হাসপাতালেই পড়ে আছেন।

বৃদ্ধ আকল মিয়ার বলেন, অবসরপ্রাপ্ত আনসার পিসি শৌচাগার ব্যবহার করার সময় ডান পা ভেঙ্গে যায়। ছেলে কবিরাজ চিকিৎসা করায় ভাল হয়নি। কবিরাজ বলে ডাক্তার দেখাতে। অপারেশন লাগবে পরে কুমিল্লা জেলায় নিয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসককে দেখান ছেলে রজব আলী। সে ঐ সময় কুমিল্লার এক থানায় কর্মরত ছিল। কয়দিন পরে আকল মিয়াকে বাড়িতে রেখে ফেলে যান। এরপর থেকে বাবাকে কোন চিকিৎসা দেখাশোনা এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন রজব আলী।

অবশেষে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে ২০০ টাকা সম্বল নিয়ে ১৪ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হন। আর ২১ মার্চ তাকে সিলেট রেফার্ড করলেও তিনি এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের বেড নং ( বি ২১ ) এ ভর্তি রয়েছেন। কারণ মহামারী করোনার আতংকে পুরো হাসপাতাল খালি থাকার কারণে তিনি থাকার জায়গা পেয়েছেন।

তিনি বলেন জীবন এখন সংকটাপন্ন। ছেলে ও তার পরিবার বলেছে বাড়ি ফিরলে তাকে জবাই করে মেরে ফেলা হবে। তাই তিনি তার চিকিৎসা জীবনের শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা চান। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সাহায্য প্রার্থনা করছেন তিনি। অন্যতায় তাকে পায়ের অপারেশন করিয়ে একটা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থ করে দিতে আকুতি তার।

হাসপাতালের ওয়ার্ডের ডিউটিরত নার্স পল্লবী রানী জানান, বৃদ্ধ লোকটিকে কোন ঔষধ দেয়া হয়না। কারণ ডাক্তার তাকে রিলিজ দিয়েছেন। তাই তিনি কোন সরকারি ঔষধ পান না। তবে হাসপাতালের খাবার দেয়া হচ্ছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com